বাংলাদেশে হাম (Measles) প্রাদুর্ভাব: হামের লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা, প্রতিরোধের উপায় এবং কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
Reviewed by: Manipal Hospitals Global
Posted on Jul 21, 2026
8 Min Read
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হাম (Measles)-এর সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বহু বছর ধরে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে হামের প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবুও টিকাদানে ঘাটতি, অপুষ্টি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার কারণে এখনও বিভিন্ন অঞ্চলে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে।
হামকে অনেকেই সাধারণ জ্বর বা ত্বকে র্যাশ ওঠার একটি সাময়িক সমস্যা মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, মস্তিষ্কের প্রদাহ (Encephalitis) এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তবে সুখবর হলো, সময়মতো টিকা গ্রহণ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে হাম সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধযোগ্য।
এই ব্লগে হামের লক্ষণ, হাম কী, কেন হয়, কীভাবে ছড়ায়, সম্ভাব্য জটিলতা, চিকিৎসা, খাদ্যাভ্যাস, প্রতিরোধের উপায় এবং কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি, এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।
Synopsis
- হাম (Measles) কী?
- হাম কীভাবে ছড়ায়?
- কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
- হামের লক্ষণ কখন দেখা দেয়?
- শিশুদের ক্ষেত্রে হাম কেন বেশি বিপজ্জনক?
- হামের সম্ভাব্য জটিলতা
- হাম কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
- হামের চিকিৎসা
- হাম হলে কী খাওয়া উচিত?
- বাড়িতে রোগীর যত্ন
- কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
- হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়
- হাম সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা
- উপসংহার
- কেন Manipal Hospitals Global-এ চিকিৎসা নেবেন?
হাম (Measles) কী?
হাম একটি তীব্র ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা Measles virus দ্বারা হয়। এই ভাইরাস Paramyxoviridae পরিবারের Morbillivirus গণের অন্তর্ভুক্ত। ভাইরাসটি প্রথমে নাক, গলা এবং শ্বাসনালীর কোষে সংক্রমণ ঘটায়। এরপর এটি রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে।
হামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যন্ত উচ্চ সংক্রমণ ক্ষমতা। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি যদি এমন পরিবেশে থাকেন যেখানে আশেপাশের মানুষ টিকা নেননি বা পূর্বে হামে আক্রান্ত হননি, তাহলে তাদের মধ্যে অধিকাংশই সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
হাম কীভাবে ছড়ায়?
হাম একটি বায়ুবাহিত (Airborne) রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি যখন কাশি, হাঁচি বা কথা বলেন, তখন ভাইরাসযুক্ত ক্ষুদ্র ড্রপলেট বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। অন্য কেউ সেই বাতাস শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে সহজেই সংক্রমিত হতে পারেন।
এছাড়াও ভাইরাসটি কোনো দরজার হাতল, টেবিল, খেলনা বা অন্যান্য পৃষ্ঠে প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি সেই স্থান ছেড়ে যাওয়ার পরও সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়।
সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তি র্যাশ ওঠার চার দিন আগে থেকে এবং র্যাশ ওঠার চার দিন পর পর্যন্ত অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে পারেন। তাই এই সময় রোগীকে আলাদা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
যদিও যেকোনো বয়সের মানুষ হামে আক্রান্ত হতে পারেন, তবে কিছু ব্যক্তি তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন।

- ৫ বছরের কম বয়সী শিশু
- যেসব শিশু এমআর (Measles-Rubella) টিকার দুটি ডোজ সম্পূর্ণ করেনি
- অপুষ্টিতে ভোগা শিশু
- গর্ভবতী নারী
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তি
- ক্যান্সারের চিকিৎসা নিচ্ছেন বা ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ গ্রহণ করছেন এমন রোগী
- ভিটামিন এ-এর ঘাটতিতে ভোগা শিশু
হামের লক্ষণ কখন দেখা দেয়?
ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করার পর সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে হামের লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। প্রথমদিকে এটি সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো মনে হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণগুলো দেখা যায়।
প্রাথমিক লক্ষণ
রোগের প্রথম তিন থেকে চার দিনে সাধারণত দেখা যায় -
- উচ্চমাত্রার জ্বর (১০৩–১০৫°F পর্যন্ত)
- সর্দি
- শুকনো কাশি
- গলা ব্যথা
- দুর্বলতা ও অবসাদ
- ক্ষুধামন্দা
- চোখ লাল হয়ে যাওয়া
- চোখ দিয়ে পানি পড়া
- আলো সহ্য করতে না পারা (Photophobia)
এই সময় অনেকেই এটিকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে অবহেলা করেন, যা পরে জটিলতার কারণ হতে পারে।
কোপলিক স্পট (Koplik's Spots)
হামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো কোপলিক স্পট। এগুলো গালের ভেতরের অংশে, বিশেষ করে দাঁতের পাশের মাড়ির কাছে ছোট সাদা বা নীলচে-সাদা দানার মতো দেখা যায়। সাধারণত র্যাশ ওঠার ১–২ দিন আগে এগুলো দেখা দেয় এবং এটি হাম শনাক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক্যাল লক্ষণ।
র্যাশ বা লাল দাগ
জ্বর শুরু হওয়ার তিন থেকে পাঁচ দিন পর শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দেয়।
র্যাশ সাধারণত -
- প্রথমে মুখ ও কানের পাশে শুরু হয়
- এরপর ঘাড়ে ছড়ায়
- তারপর বুক ও পিঠে
- পরে হাত ও পায়ে ছড়িয়ে পড়ে
প্রথমে ছোট ছোট লাল দাগ থাকলেও পরে এগুলো একত্রিত হয়ে বড় লালচে অংশে পরিণত হতে পারে। র্যাশ ওঠার সময় অনেক ক্ষেত্রে জ্বর আরও বেড়ে যায়। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় দিন পর র্যাশের রঙ গাঢ় হয়ে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।
শিশুদের ক্ষেত্রে হাম কেন বেশি বিপজ্জনক?
শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তখনও পুরোপুরি বিকশিত হয় না। তাই তাদের শরীর ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তুলনামূলকভাবে কম সক্ষম। অপুষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
হামের কারণে শিশুর শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, খাবারের প্রতি অনীহা তৈরি হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যায়। ফলে অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণও সহজে দেখা দিতে পারে।
হামের সম্ভাব্য জটিলতা
যদিও অনেক রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন, কিছু ক্ষেত্রে হাম গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
- নিউমোনিয়া: হামজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। শ্বাসকষ্ট, দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা বুক দেবে যাওয়া দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
- মধ্যকর্ণের সংক্রমণ (Otitis Media): এতে কানে ব্যথা, কানে পুঁজ পড়া এবং শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা: বিশেষ করে ছোট শিশুদের মধ্যে দ্রুত পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে।
- এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ): বিরল হলেও এটি অত্যন্ত গুরুতর জটিলতা। খিঁচুনি, অচেতন হয়ে যাওয়া বা আচরণগত পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
- চোখের জটিলতা: ভিটামিন এ-এর ঘাটতি থাকলে কর্নিয়ার ক্ষতি ও স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি বাড়ে।
হাম কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসক রোগীর লক্ষণ, শারীরিক পরীক্ষা এবং র্যাশের ধরন দেখে হাম শনাক্ত করতে পারেন।
প্রয়োজনে নিম্নলিখিত পরীক্ষা করা হতে পারে -
- Measles IgM Antibody Test
- RT-PCR পরীক্ষা
- Complete Blood Count (CBC)
- বুকের এক্স-রে (নিউমোনিয়ার সন্দেহ হলে)
হামের চিকিৎসা
হামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হলো উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা, রোগীকে আরাম দেওয়া এবং জটিলতা প্রতিরোধ করা।
চিকিৎসার মধ্যে থাকতে পারে -
- জ্বর কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম
- পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ
- ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্ট (বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী)
- প্রয়োজনে অক্সিজেন বা হাসপাতালে ভর্তি
গুরুত্বপূর্ণ: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের কখনোই Aspirin দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে Reye's Syndrome নামক গুরুতর জটিলতা হতে পারে।
হাম হলে কী খাওয়া উচিত?
সঠিক পুষ্টি রোগীর দ্রুত সুস্থ হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রোগীকে পর্যাপ্ত পানি, ওআরএস, ডাবের পানি, স্যুপ এবং অন্যান্য তরল খাবার দিন যাতে শরীরে পানিশূন্যতা না হয়।
সহজপাচ্য খাবার যেমন -
- খিচুড়ি
- নরম ভাত
- ডাল
- সুজি
- ওটস
- সেদ্ধ ডিম
- মাছ
- চিকেন স্যুপ
খাওয়ানো যেতে পারে।
ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার যেমন গাজর, কুমড়া, পাকা পেঁপে, আম ও সবুজ শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
যদি আক্রান্ত শিশু বুকের দুধ পান করে, তবে কোনো অবস্থাতেই বুকের দুধ বন্ধ করা যাবে না।
বাড়িতে রোগীর যত্ন
- রোগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রামে রাখুন।
- ঘরের বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করুন।
- প্রচুর তরল পান করান।
- ব্যক্তিগত তোয়ালে, কাপড় ও থালা-বাসন আলাদা ব্যবহার করুন।
- জ্বরের সময় কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দিতে পারেন।
- চোখে আলো লাগলে পর্দা টেনে রাখুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করবেন না।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে যান -
- শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
- বুক দেবে যাওয়া
- শিশু খেতে বা পান করতে না পারা
- বারবার বমি
- তীব্র ডায়রিয়া
- খিঁচুনি
- অতিরিক্ত ঝিমিয়ে থাকা বা অচেতন হয়ে যাওয়া
- কান দিয়ে পুঁজ পড়া
- চোখে পুঁজ হওয়া
- র্যাশ চলে যাওয়ার পর আবার জ্বর বেড়ে যাওয়া
- জ্বর সাত দিনের বেশি স্থায়ী হওয়া
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায় হলো সময়মতো এমআর (Measles-Rubella) টিকা গ্রহণ।
বাংলাদেশের জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI)-এর আওতায় শিশুদের বিনামূল্যে এমআর টিকা দেওয়া হয়।
টিকার সময়সূচি
- প্রথম ডোজ: ৯ মাস বয়সে
- দ্বিতীয় ডোজ: ১৫ মাস বয়সে
দুটি ডোজ সম্পূর্ণ করলে হামের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা তৈরি হয়।
হাম সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা
অনেকেই মনে করেন হাম হলে গোসল করা যাবে না বা বিশেষ ধরনের খাবার খাওয়া যাবে না। এগুলোর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ রোগীকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
আবার অনেকেই হামকে "মায়ের দয়া" বা অলৌকিক কোনো রোগ মনে করেন। বাস্তবে হাম একটি সম্পূর্ণ ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যার কার্যকর প্রতিরোধ হলো টিকাদান এবং সময়মতো চিকিৎসা।
উপসংহার
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক হলেও সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সচেতনতা, সময়মতো এমআর টিকা গ্রহণ, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস এবং দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগের জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। যদি কোনো শিশু বা পরিবারের সদস্যের উচ্চ জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরবর্তীতে শরীরে র্যাশ দেখা দেয়, তবে অবহেলা না করে দ্রুত একজন শিশু বিশেষজ্ঞ বা সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক পদক্ষেপই রোগীর দ্রুত সুস্থতা নিশ্চিত করতে এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
কেন Manipal Hospitals Global-এ চিকিৎসা নেবেন?
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো সঠিক রোগ নির্ণয়, উপযুক্ত চিকিৎসা এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Manipal Hospitals Global-এ অভিজ্ঞ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ (Paediatricians), সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ (Infectious Disease Specialists), ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ এবং জরুরি বিভাগ (Emergency Medicine)-এর সমন্বিত দল রোগীর বয়স, উপসর্গ এবং শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক চিকিৎসা প্রদান করে।
আমাদের সেবার মধ্যে রয়েছে -
- হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের দ্রুত ও সঠিক রোগ নির্ণয়
- শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা
- প্রয়োজনে উন্নত ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ও ইমেজিং সুবিধা
- নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এনসেফালাইটিসসহ হামের জটিলতার সমন্বিত চিকিৎসা
- গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য ২৪×৭ জরুরি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার সুবিধা
- রোগীর পুষ্টি, তরল গ্রহণ এবং পুনর্বাসন সংক্রান্ত পরামর্শ
- আন্তর্জাতিক মানের সংক্রমণ প্রতিরোধ (Infection Prevention & Control) ব্যবস্থা
- আন্তর্জাতিক রোগীদের জন্য নিবেদিত International Patient Care Services, যেখানে চিকিৎসা পরিকল্পনা, ভ্রমণ সহায়তা, ভাষাগত সহায়তা এবং চিকিৎসা
- পরবর্তী ফলো-আপের সুবিধা প্রদান করা হয়।
যদি আপনার শিশু বা পরিবারের কোনো সদস্যের মধ্যে উচ্চ জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে র্যাশের মতো হামের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসা জটিলতার ঝুঁকি কমাতে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Share this Article


Not sure what you’re looking for?
Not sure what you’re looking for?
Get in touch with our representatives for
help!
Get in touch with our
representatives for help!

